নতুন পেজের রিলস ভিডিও ১ মিলিয়ন ভিউ আনার সহজ উপায়

নতুন পেজের রিলস ভিডিও ভাইরাল করার জন্য এবং ১ মিলিয়ন ভিউ করার সহজ কার্যকর উপায় জানুন। 

নতুন পেজের রিলস ভিডিও ১ মিলিয়ন ভিউ আনার সহজ উপায়

১ মিলিয়ন ভিউ করার জন্য যে সকল বিষয়বস্তু জানা প্রয়োজন তার টিপস ও ভাইরাল হওয়ার কার্যকর নির্দেশনা পাবেন। এবং খুব সহজে আপনার রিলস ভিডিওতে ১মিলিয়ন ভিউ আনতে পারবেন।

পেজ সূচিপত্র: নতুন পেজের রিলস ভিডিওতে ১মিলিয়ন ভিউ আনার উপায় 

ভূমিকা

বর্তমান সময়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম রিলস কনটেন্ট ক্রিয়টদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে একটি। প্রতিদিন প্রায় লক্ষ লক্ষ মানুষ এই রিলস ভিডিও দেখে। এবং নতুন নতুন পেজ মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ১লক্ষ থেকে ১মিলিয়ন ভিউ অর্জন করছে। অনেকেই মনে করেন, নতুন পেজ থেকে কখনোই ভালো ভিউ পাওয়া সম্ভব না। বাস্তবে এই ধারণাটি ভুল। নিয়মিত কাজ ও মানসম্মত ভিডিও এবং ধৈর্য সহকারে কাজ করলে একটি নতুন পেজ থেকেও ১ মিলিয়ন বা তার বেশি ভিউ পাওয়া সম্ভব।

একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটার হিসেবে যদি সঠিক কৌশল খাটিয়ে কাজ করে তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিও ভাইরাল করতে সক্ষম হবে।

এই আর্টিকেলে নতুন পেজের রিলস ভিডিওতে ১ মিলিয়ন ভিউ বা তার বেশি ভিউ করার কার্যকর কৌশল এবং পরামর্শ ও যেসব ভুল এড়িয়ে চলতে হবে। তা সকল কিছু আলোচনা করা হয়েছে। 

ভিডিওতে দ্রুত ১ মিলিয়ন ভিউ করার উপায়

আপনি যদি প্রশ্ন করেন যে সত্যিই কি ভিডিওতে দ্রুত ১ মিলিয়ন ভিউ আনা সম্ভব? তবে আমি বলব হ্যাঁ অবশ্যই সম্ভব। কারণ বর্তমানে প্রতিদিন অনেক নতুন পেজে মাত্র ২,৩ টি ভিডিও আপলোড করে মিলিয়ন ভিউ আনতে সক্ষম হচ্ছে। কারণ কি? তাদের ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে কিন্তু আপনার ভিডিও কেন হচ্ছে না। আপনি সঠিক সময় সঠিকভাবে ভিডিও আপলোড করছেন না। বা আপনার ভিডিও কোয়ালিটি খারাপ হচ্ছে। তাই আপনার মূল লক্ষ্য হবে ভিডিওর কোয়ালিটির উপরে গুরুত্ব দাওয়া।
রিলস ভিডিও ১ মিলিয়ন ভিউ
তবে শুধু কাজ করলে হবে না। আপনাকে ধারাবাহিকভাবে ভালো মানের ভিডিও তৈরি করতে হবে এবং ভিউয়ার্সরা কি দেখতে পছন্দ করে তা বুঝে ভিডিও বানাতে হবে। তবে আপনার ভিডিও ভাইরাল হবে এবং খুব সহজেই ওয়ান মিলিয়ন বা তার বেশি ভিউ আসা শুরু করবে।

রিলস ভিডিও ভাইরাল করার উপায়

রিলস একটি শর্ট ভিডিওকে নির্দেশ করে। যা ব্যবহারকারীদের খুব অল্প সময়ে বিনোদন,শিক্ষা বা বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে। এই কারণে মানুষ রিলস ভিডিও বেশি দেখে। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের রিলস ভিডিও মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছায়। কারণ এসব ছোট ভিডিও থেকেই মানুষ বিনোদন পেয়ে থাকে। 

আরও পড়ুনঃ ইনস্টাগ্রামে একাউন্ট তৈরি করে টাকা ইনকাম 

একটি ভালো রিলস ভিডিও প্রথমে অল্পসংখ্যক অডিয়েন্স এর কাছে দেখানো হয়। যদি সেই অডেন্সরা তা পছন্দ করে এবং লাইক কমেন্ট করে। তাহলে ওই ভিডিওটি আস্তে আস্তে সকল অডিয়েন্স এর কাছে পৌঁছে যেতে শুরু করে। ঠিক এভাবেই একটি ভিডিও কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ এবং শেষ পর্যন্ত মিলিয়ন ভিউ হওয়া সম্ভব। 

সঠিক নিশ নির্বাচন করার নিয়ম

আমাদের মধ্যে একটি কমন সমস্যা হচ্ছে যে একটি পেজে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও আপলোড করে থাকি। এতে অডিয়েন্সরা বুঝতে পারে না যে আপনি আসলে কি ভিডিও তৈরি করেন যা দর্শকের মোটিফেশন হারিয়ে যাই এবং আপনার ভিউ আশা কমে যায়। এই সমস্যাটি এড়াতে আপনাকে একটি সঠিক ভাইরাল টপিক নিয়ে সঠিক বিষয় নির্বাচন করে ওই বিষয়ের উপর ভিডিও তৈরি করতে হবে। 
একটি নির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন করুন। যেমন: 

প্রযুক্তি, অনলাইন আয়, ফ্রিল্যান্সিং, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রান্নাবান্না, ভ্রমণ, ইসলামিক তথ্য, ইত্যাদি এমন অনেক বিষয় রয়েছে। আপনি যে বিষয়ের উপরে ভালো বোঝেন ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে সে বিষয়টি নিয়ে কাজ করুন তবেই আপনার ভিডিওতে মিলিয়ন ভিউ আসা সম্ভব।

ট্রেন্ডিং টপিক খুঁজে বাহির করা

ভিডিও ভাইরাল করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ট্রেন্ড ফলো করা। ট্রেন্ডিং বিষয় খুঁজে বের করে ওই বিষয়ের উপর ভিডিও তৈরি করা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে কিভাবে ট্রেন্ডিং বিষয়গুলো খুঁজে পাবো। তার জন্য নিচে কিছু বিষয় উল্লেখ করা হলো। 

১.ফেসবুক রিলস দেখা যে সকল ভিডিও বা যে সকল গান বারবার আসবে সেই ভিডিও বা গান দিয়ে একটি রিলস তৈরি করুন।

২. ইনস্টাগ্রাম রিলস এক্সপোর ব্যবহার করুন।
৩. ইউটিউব শর্টস পর্যবেক্ষণ করুন। 
৪. গুগল ট্রেন্ডস ব্যবহার করুন। 
৫. জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ভিডিও অনুশীলন করুন 

তবে কখনোই অন্যের ভিডিও কপি করবেন না। একটি ট্রেনিং টপিক বাছাই করে ওই বিষয়কে নিজের ভাষায় নিজের স্টাইলে এবং ইউনিকভাবে উপস্থাপন করবেন। 

ভিডিওর প্রথম তিন সেকেন্ড কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

অধিকাংশ অডিয়েন্সেরা প্রথম কয়েক সেকেন্ড দেখে সিদ্ধান্ত নেয় যে সে এই ভিডিওটি পুরোটা দেখবেন কিনা। তাই শুরুতেই এমন কিছু টপিক ব্যবহার করবেন যা অডেন্সদের কৌতূহল তৈরি করে।
 
উদাহরণ: 
১.এই ভুলটি করলে কখনোই ভিডিও ভাইরাল হবে না,!
২.মাত্র ৩০ সেকেন্ডে জেনে নিন...!
৩.নতুন পেজে ১ হাজার ফলোয়ার বাড়িয়ে নিন....!

এমন কিছু দিয়ে অডিয়েন্সদের কৌতূহলের মধ্যে ফেলতে হবে। তবে অডিয়েন্সরা পুরো ভিডিও দেখবে এবং আপনার ভিউ বাড়তে থাকবে। তবে শুরুতেই যদি এমন আকর্ষণীয় না হয় তাহলে অডেল্সরা ভিডিওটি স্ক্রল করে চলে যাবে। এবং ভিডিও রিচ কমে যাবে। 

ভিডিও কত মিনিটের হলে ভালো হয়

রিলস ভিডিও বেশি বড় হওয়া যাবে না। সাধারণত ১৫ থেকে ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যে ভিডিও হলে ভালো হয়। তবে আপনার বিষয়ের উপর নির্ভর করে ৬০ থেকে ৯০ সেকেন্ডের ভিডিও করতে পারেন। এতেও কোন সমস্যা নেই। 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভিডিওটি যেন শেষ পর্যন্ত দেখার মত আকর্ষণীয় হয়। অর্থাৎ ভিডিওর শুরুতে কিছু আকর্ষণীয় জিনিস বা আকর্ষণীয় কথা রাখতে হবে। 

আকর্ষণীয় ক্যাপশন ও কভার নির্বাচন

অনেকেই মনে করেন রিলস ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ক্ষেত্রে শুধু ভিডিওর মান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে একটি ভালো ক্যাপশনও ভিডিওর পারফরম্যান্স বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই আমাদের ক্যাপশন এর ওপর ফোকাস করা উচিত। ক্যাপশন এমন ভাবে লিখতে হবে যাতে অডেন্সদের ভিডিও সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায় এবং কমেন্ট করতে আগ্রহী হয়। 

ক্যাপশনের শুরুতে ভিডিওর মূল বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে এরপর সংক্ষিপ্তভাবে ভিডিও এর কারণগুলো লিখতে হবে। 

ভিডিও শুরুতে আকর্ষণীয় কাভার নির্বাচন করতে হবে। এই কাভারগুলো র মধ্যে কিছু আকর্ষণীয় কথা লিখতে হবে এবং আকর্ষণীয় কিছু ছবি অ্যাড করতে হবে। সাধারণত এইসব কভার ফটো ক্যানভাস দিয়ে ফ্রিতে তৈরি করতে পারেন।

সঠিক নিয়মে হ্যাশট্যাগ এর ব্যবহার

হ্যাশট্যাগ আমাদের ভিডিওকে ভাইরাল করতে সাহায্য করে। কিন্তু আমরা এর ব্যবহার জানি না বলে উল্টাপাল্টা অনেক বেশি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ফেলি। তার জন্য আমাদের ভিডিওর রিচ কমে যায় এবং ভিউ কম আসে। তার জন্য আমাদের সঠিক নিয়মে অল্প সংখ্যক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করতে হবে। 

শুধু ভাইরাল হ্যাশট্যাগ ব্যবহার না করে যে বিষয়ে ভিডিও তৈরি করবেন তার সঙ্গে মিল রেখে হ্যাশট্যাগ নির্বাচন করবেন। একটা কথা মাথায় রাখবেন কখনোই অতিরিক্ত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করবেন না এতে ভিডিওর মান কমে যায় এবং ভিউ আসে না। 

ভিডিও আপলোড করার সঠিক সময়

আপনার অডিয়েন্সেরা কখন বেশি একটিভ থাকে তখন ভিডিও ছাড়লে ভিডিওর এনগেজমেন্ট বেড়ে যায়। 

সাধারণত ভাবে বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী: 

সকাল ৮:০০ থেকে ১০:০০ টার মধ্যে
দুপুর ‌১:০০ থেকে ৩:০০ টার মধ্যে 
সন্ধ্যা ৭:০০ থেকে ১০:০০ টার মধ্যে 

তবে আপনার পেজে কখন ভিডিও ছাড়লে দ্রুত ভিউ আসে ঠিক ওই সময়ে ভিডিও ছাড়া উত্তম।

নতুনদের সাধারণ ভুল ও সমাধান

অনেক নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা কিছু সাধারণ ভুল করে থাকে যার জন্য ভিডিওতে ভিউ আসে না। কি কি ভুল করা যাবে যাবে না তা নিচে দেওয়া হলো: 

অন্যের ভিডিও কপি করা যাবেনা 
নিম্নমানের ভিডিও আপলোড করা যাবে না 
প্রতিদিন সময় মতো ভিডিও আপলোড করতে হবে 
অতিরিক্ত হাশট্যাগ ব্যবহার করা যাবে না 
শুরুতে আকর্ষণীয় কিছু রাখতে হবে 
খুব বড় ভিডিও বানানো যাবে না 
কমেন্টের উত্তর দিতে হবে 
একই ভিডিও বারবার আপলোড করা যাবে না 
ট্রেন্ড অনুসরণ করতে হবে 
ধৈর্য হারিয়ে ফেলা যাবেনা 

এই সকল বিষয়বস্তু মেনে চলতে পারলে আপনার ভিডিও তে দ্রুত বেশি ভিউজ আসা শুরু করবে এবং ১মিলিয়ন ভিউ বা তার বেশি ভিউ আসবে।

শেষ কথা

নতুন পেজের রিলস ভিডিওতে ১ মিলিয়ন ভিউ আনা অসম্ভব কিছু নয়। এর জন্য প্রয়োজন পরিশ্রম ভালো মানের কনটেন্ট ট্রেন্ডিং বিষয়গুলো ফলো করা। তবেই বেশি ভিউ আনা সম্ভব হবে। অবশ্যই আপনার ভিডিওতে এমন কিছু রাখতে হবে যাতে দর্শকের আগ্রহ বেড়ে যায়। সঠিক সময়ে ভিডিও আপলোড করতে হবে। এই সকল বিষয়বস্তু মেনে চলতে পারলে আপনার ভিডিওতে ১ মিলিয়ন বা তার বেশি ভিউ আসা সম্ভব। ওপরের সকল বিষয়বস্তু মেনে কাজ করুন অবশ্যই আপনার ভিডিওতে ভালো মানের ভিউ আসা শুরু করবে। আশা করি সকল বিষয়বস্তু বুঝতে পেরেছেন। তাই এ পোস্টটি ভাল লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। এবং কোন বিষয় জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন। এতক্ষণ আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে আমার এই পোস্টটি করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

উপকারী আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

MD Masrafi
MD Masrafi
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও উপকারী আইটির ওনার। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছর অভিজ্ঞতায় তিনি অনন্যদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।